Showing posts with label Other. Show all posts
Showing posts with label Other. Show all posts

Sunday, March 9, 2014

Untitled

আমি সারা জীবন...

পায়ে হেঁটে বাস-ট্রেন-প্লেন-লঞ্চ-জাহাজে চেপে,
মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিক -জয়েন্ট-প্রাইভেট টিউশান ছাড়িয়ে,
চাকরি-প্রমোশান-ইনসেন্টিভ-ইন্সুরেন্স-এল.আই.সি. করিয়ে,
বিয়ে-মধুচন্দ্রিমা-রোমান্স-খুনসুটি-বাচ্চার ভবিষ্যত গড়িয়ে,
রবীন্দ্রনাথ-জীবননান্দ-গীতা-বেদ- উপনিষদ -বার্ধক্য-বৃদ্ধাশ্রম পেরিয়ে,

ঠিক দুই কিলোমিটার পথ পাড়ি দেব....
ঠিক দুই কিলোমিটার পথ..

শিশুমঙ্গল হাসপাতাল থেকে ক্যাওড়াতলা শ্মশানের দূরত্ব ঠিক যতটা.....

সেই ক্লাসরুম

মনে পড়ে সেই প্রথম দিনের কথা ?
অবাক চোখে তাকিয়ে ছিলাম তোর দিকে-
কি জানি একটা ঘোর লেগেছিল চোখে!
ছুঁয়ে দেখেছিলাম-
তোর বুকের পাঁজরগুলো।
পেয়েছিলাম আমার মতোই আরও অনেককে!
মু‍গ্ধ, বিস্মিত, কৌতুহলী কিংবা ভীতও!
তারপর থেকে অনেকটা পথ পার করেছি।
তুই এসেছিস নানা ভাবে, নানা সাজে;
কিন্তু সঙ্গ ছাড়িসনি।
কখনও বিরক্ত হয়েছি-
তোর আঁকড়ে ধরার চেষ্টায়।
কিন্তু যেন এগিয়ে আসছে সেই সময়-
তোকে ছেড়ে যাওয়ার,
Just miss করার।

আমার কান্না-হাসির মুহূর্ত,
টিফিন কাড়ার ঝগড়া;
বেঞ্চ যখন তবলা,
আর তুই গানের আখড়া।

আজ শাস্তি পাওয়ার দিনে,

ক্লাসরুম দাঁড়িয়ে কাঁদে একলা মনের কোণে।।

এক প্রেমিক আর এক ঝাড়ুদার

মাঝে মাঝে একা হওয়ার বিলাসিতা
--- আজ আর নেই !

নিঃসঙ্গতার বড়াই করতে করতে ক্লান্ত মন।
প্রিয় বকফুল শালোয়ার
জায়গা পেয়েছে গলির মােড়ে –
কালো প্লাস্টিকে ঢাকা মুখ।

ফোঁটা ফোঁটা লাল রং রাস্তায় ;
হিমশীতল ঘরে শীতলতম তোর হাত।
নীল চোখ এখনও ভয়ে মাখা মাখি।

আমি কি একা ? নাকি তোমরাও সবাই ?
আরও একটা আধখালি শব্দের ব্যাগ
শেষ চিৎকারে ছারখার।
কতদিন আগুন জ্বালাইনা ......
কতদিন বৃষ্টিতে ভিজিনা ......

Monday, February 24, 2014

আস্তে লেডিজ!!

আছি এক আজব দেশে,
খাবার কিছু থাকেনা মেস-এ!
বাথরুমে আর নেই তো জল!!
বড়ই কষ্ট করতে মল;
বর্ষাতে থাকে অনেক পানি –
বাসার পুরো সামনা-সামনি।
আমাদের নিপুণা গৃহকর্ত্রী
পছন্দ করেননা বেরনো রাত্রি।
বলেন নাকি রেপ তারাই হয়,
যারা মারে মেক-আপ দেহময়!
রাত দশটা বাজলে পরে
বকনার দল ঘরে ফেরে।
কতই না বাধ্য আমরা সব!

আর বেশি বললে মলেস্ট করবে মব!!!

যেদিন এই শহর আমার হল



নিউমার্কেটের বাসে উঠেই বুঝলাম পূজার সিজনে বের হওয়া মোটেও উচিৎ হয়নি। অসম্ভব ভীড় আর গরমে দাঁড়িয়ে আছি (আমার সিট ভাগ্য খুব খারাপ) , এদিকে উচ্চতা কম বলে উপরের রডও নাগাল পাইনা, তাই হাতের ছাতা ব্যস্ততার সাথে ব্যাগে ঢুকিয়ে দুই সিট ধরে দাঁড়িয়ে গেলাম।

যে সিটের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম তাতে দুই বোন বসে ছিল, বড় বোন ছোট জনের চেয়ে খুব বড় না হলেও বুঝদারের মত জানালাটা তুলে দে,খুব রোদ, সানস্ক্রিন মেখে এসেছিস? ইত্যাদি প্রশ্ন করছিল ও মতামত জানাচ্ছিল - আমরাও দুই বোনও কাছাকাছি বয়সের- কাছাকাছি বয়সের হলেই একই মায়ের শরীর থেকে রক্ত ও পুষ্টি নিয়ে জন্ম নেওয়া দু’টি মানুষ ভালো বন্ধু হতে পারে না- আমরা কাছাকাছি মনেরও। এই বোনেরা তা কিনা জানিনা।

বাস বিদ্যা সাগর সেতুতে উঠলে আমার মন শত খারাপ থাকলেও ভালো হয়ে যায়। আকাশের মেঘ যেন বাসটার মাথায় ছাতা ধরে রোদ বাঁচিয়ে পাড় করে দিল সেতুর অংশটুকু। সেতু পাড় হতেই মেঘ নেই! আমি অনেকক্ষণ ধরেই দাঁড়িয়ে আছি দেখে সিনিয়র সিটিজেন সিটে বসা সৌম্যদর্শন বৃদ্ধ আমার দিকে করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলেন- হয়ত আমি তার মেয়ের মত দেখতে। আমাদের প্রিয় কিছুর সাথে মিল খুঁজে পেলেই আমরা নিতান্তই অচেনা কিছুদেরও প্রিয় চোখে দেখতে পারি। অপ্রিয় কিছুর ক্ষেত্রে অবশ্য তা ঠিক বিপরীত।
অবশেষে একটা সিট ফাঁকা হলে এবং আমি সেখানে বসতে পারায় সেই বৃদ্ধ দুশ্চিন্তা মুক্ত হয়ে সোজা হয়ে বসলেন। জানালা দিয়ে দ্রুত পার হয়ে যাওয়া রাস্তার দিকে তাকিয়ে ছিলাম। দেখলাম একটি ছেলের কাঁধে তার পা ভাঙ্গা বন্ধু ভর দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।